বিরোধী দল গণতন্ত্র ধ্বংস করতে নতুন চক্রান্তে মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্টদের মিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার সকালের দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদা খালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল যেভাবে গালিগালাজ করছে, সেটাকে তারা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলছে। কিন্তু এটি কোনোভাবেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হতে পারে না। দেশের মানুষ তাদের আগে গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।”
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক হুঙ্কার ও রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “তারা নিজেরাই প্রকাশ্যেই বলছে যে ১১ দলের দাবি না মানলে বোমাবাজি ও ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হবে না। এসবের মাধ্যমে তারা মূলত গণতন্ত্রকেই নস্যাৎ করতে চাচ্ছে।”
গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আচরণের যোগসূত্র রয়েছে দাবি করে মন্ত্রী আরও বলেন, “যারা গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল, তারা ওপার থেকে নির্দেশ দিচ্ছে, আর এপারে তাদের নেতৃত্বে গাড়িতে আগুন দেওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো ঘটনা ঘটছে। এর সাথে বর্তমান বিরোধী দলের অপকর্ম ও বক্তব্যের হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র এবং তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের সাথে বিরোধী দলের সম্পর্ক প্রসঙ্গে এ্যানি বলেন, “আমরা যেদিন শপথ নিই, সেদিন বিরোধী দল তা বয়কট করে। ভিন্নমত বা আলোচনা থাকতেই পারে, কিন্তু তারা সেই সুযোগ না নিয়ে অতীতে ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের মতো পুনরায় ফ্যাসিস্টদের সাথে সখ্য গড়ে তুলছে। প্রথম দিন থেকেই তাদের মূল উদ্দেশ্য আগামী পাঁচ বছর সরকারকে শান্তিতে কাজ করতে না দেওয়া।”
পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরের বিরোধী দলের আচরণের বৈপরীত্য তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “সংসদে তারা খুব সুন্দর ভাষায় কথা বলেন, যা শুনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাদের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু বাইরে বের হলেই তারা শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং অশালীন ভাষা ব্যবহার শুরু করেন, যা কোনো সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না।”

